ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলেজের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা আগামী সাত দিনের জন্য স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সাথে সকাল ৮টার মধ্যে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাসে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন তৃতীয় বর্ষের মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। জানা গেছে, মুয়াজ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী এবং হামিদুর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল ভরা নিয়ে মুয়াজ ও হামিদুরের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। তর্কের এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নিলে হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর হামিদুর ছাত্রাবাসের বাইরে গেলে তাকে লক্ষ্য করে স্টিলের পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান জানান, আহত মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে হামিদুর বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাময়িকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।







